=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

প্রতিবাদের শক্তিতেই মেয়েদের নিরাপত্তা ও সম্মান

আমরা এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছি যেখানে নারীর পাশাপাশি শিশুকন্যারও ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই। কেউ কেউ নিপীড়িত হলে প্রতিবাদ করেন, কিন্তু শিশুদের শেখানো হয় চুপ করে থাক, কাউকে কিছু বলবে না। শুধু কন্যাশিশুই নয়, ছেলেশিশুরাও যৌন হয়রানির শিকার হয় তবে তুলনামূলক কম। এখন পরিবর্তন দরকার, প্রত্যেক পরিবারেই বাবা-মা যেন সন্তানকে শেখান, কোনো অসংগত আচার, কাজে, কথায় যদি কখনও কেউ জড়িয়ে পড়ে, তখন তা দ্রুত জানাতে হবে। মা-বাবাকে বিশ্বাস করতে হবে, অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না।

অনেক সময় দেখা যায়, পরিচিত পুরুষের কোলে সন্তানেরা বসে, মা-বাবা সরল মনে বিশ্বাস করেন। কিন্তু কখন কাদের বিকৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, কেউই জানে না। ছেলেসন্তান থাকলে তাকেও শিক্ষা দিতে হবে, মেয়ে পরিচিতদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, কোনো মেয়েকে যদি তার সামনে কেউ হয়রানি করে তাহলেও সে যেন প্রতিবাদী ভূমিকা নিতে পারে। শিশুদের শেখাতে হবে, কেউ যদি চকলেট, খেলনা, উপহারের লোভ দেখিয়ে কোথাও নিতে চায়, যেন তারা কিছুতেই না যায়, প্রয়োজনে চিৎকার করে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। পারিবারিকভাবে শেখাতে হবে, মা-বাবার সঙ্গে সব কিছু ভাগাভাগি করতে হবে।

২০১৪ সালের ইউনিসেফ জরিপ বলছে, বিশ্বে প্রতি দশজনে একজন মেয়েশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার। এমন ঘটনাকে কখনোই হাল্কাভাবে দেখা উচিত নয়। বাসায় কোনো পুরুষ সদস্য আসলে শিশুর আচরণে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একটুখানি অসচেতনতার কারণে জীবনভর ট্রমার শিকার হতে পারে শিশু। এখনই সামাজিক সচেতনতা জরুরি, মুখে চেপে রাখা, সহ্য করা উচিত নয়। অন্ধ বিশ্বাসের খেসারত যেন না দিতে হয় বাচ্চাকে। আজকের দিনে পরিবারের মানুষই সুন্দরের নিরাপত্তা দিতে অপারগ, সেখানে অন্যান্য পরিচিত, প্রতিবেশী, ড্রাইভার—কারও উপর অন্ধ বিশ্বাস রাখা উচিত নয়।

নারীদের শেখানো হয়, কলঙ্ক হয় মেয়েদের, ছেলেদের নয়। কথা বললেই জীবনের সর্বনাশ, অপমান, সমাজে প্রশ্ন। কিন্তু চেপে রাখতে রাখতে শিশুটির জীবন অন্ধকারে হারিয়ে যেতে পারে আত্মহত্যা, প্রতিশোধ, বিভ্রান্তি—সব দিক থেকে। তাই শিশুকে তার কথা বলার, নিজের সমস্যা নিয়ে সজাগ হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে, নির্যাতন তার দোষ নয়, তার কোনো অপরাধ নয়।

আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ, যারা যে কোনো মুহূর্তে নারীর সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা হরণে প্রস্তুত। আমাদের উচিত, কোনো অপরাধীকে ছাড় না দেয়া, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা, আইনের সামনে দাঁড় করানো, সামাজিকভাবে তাদের সম্মানহানি নিশ্চিত করা। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত, ‘মেয়েদের নিজেদের দোষেই আক্রান্ত হয়’ এই মনোভাব ত্যাগ করে, দ্রুত ও সাহসের সঙ্গে সহায়তা পৌঁছে দেয়া।

শুধু পরিবারে নয়, স্কুল, কলেজে, কোচিং সেন্টারে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এখন সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। ছেলেদের শেখাতে হবে, নারীদের প্রতি সম্মান দেখানো, সহমর্মিতা গড়ে তোলা। এই বিপ্লব সামাজিকভাবেই শুরু করতে হবে।

প্রশ্ন করতেই হবে, কেন সমাজের সব বাঁধা ধরা নিয়ম মেয়েদের জন্য? কেন ছেলেরা নারীদেরকে চিরকাল মানিয়ে নিতে বলবে? কেন বিজ্ঞাপন, কর্মক্ষেত্র, রান্না ঘর সবখানে নারীদেরই পণ্য করা হবে? শুধুই মুখ দেখানোর জন্য, পণ্যের মান বাড়ানোর জন্য, একজন নারীর ব্যবহার হবে? এই অপমান, এই বৈষম্য আর এই ভণ্ডামিকে প্রশ্ন ও প্রতিবাদ করতে এখনই হবে।

প্রতিবাদের গর্জনে বদলে যাবে প্রতিষ্ঠান, বদলে যাবে সমাজ। চুপ করে কষ্ট সহ্য করার দিন শেষ। অধিকার, সম্মান, নিরাপত্তা—প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য। নারীদের, মেয়েদের, শিশুর—সবাইকে প্রতিবাদী হতে শেখাতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের জন্য ঘরে-বাইরে, পরিবার থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটা স্তরে, আমাদের প্রত্যেককে সাহসী আর প্রতিবাদী হতে হবে।