সমাজের আদেশ – নারী মানেই স্বামীর দাসী, নিজের অস্তিত্ব কোথায়?

শিশুকাল থেকেই প্রতিটি মেয়েকে শেখানো হয় মেয়েরা ধৈর্য্যশীলা, তোমরা ভদ্র, তোমাদের পৃথিবী কেবল বাড়ির চার দেয়ালে, সন্তান, রান্নাঘর, স্বামীর জুতো-পালিশ, শাশুড়ির খুশী। ধর্মীয় বক্তা, সমাজপতি, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই মেয়েদের চরিত্র, পোশাক, হাসি, পছন্দ, উচ্চশিক্ষা সব কিছু নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে, “তোমার জন্য স্বামীই সব।”

প্রচলিত ধর্মান্ধতা, ফতোয়া, কুসংস্কার সব ছড়িয়ে গেছে এমনভাবে যে, আজও কোটি কোটি নারীর কাছে নিজের জীবন মানে স্বামীর ‘দাসত্ব’, তার খুশির হাতছানি, তার স্বার্থের কাছে নিজের ভাষা, অধিকার,সিদ্ধান্ত, স্বাধীনতা বিলীন হয়ে থাকা। নারী প্রতিবাদ করলে, কন্ঠ উঁচু করলে, নিজের স্বাস্থ্য, পড়াশোনা,চাকরি, স্বপ্ন চাইলে তাকে ‘অশালীন’, ‘স্বার্থপর’, ‘পরিবার ভাঙার কারণ’ বলে সামাজিকভাবে একঘরে করা হয়।

ঘরে বাইরে, শহর গ্রাম সবখানে নারীর সর্বোচ্চ সাফল্য মানে স্বামীর সন্তুষ্টিতে জীবন উৎসর্গ। আইনের ছত্রছায়ায়, ধর্মীয় চক্রান্তে, পরিবারে, পোশাকে, খাদ্যে, চলাফেরায় সবখানে নারীকে কতটা ছোট করা হয়, কতটা নিশ্বাস রুদ্ধ করা হয়, সেটা বুঝতে মেয়ের চোখের জল, নীরব দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর বড় কোন প্রমাণ লাগে না।

স্বামীর সেবা করতে করতে নারীরা নিজেদের স্বপ্ন, পরিচয়, ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। জোর করে সংসার় ধরে রাখা, স্বামীর সকল সুখের জন্য নিঃশব্দ আত্মত্যাগ এটাই নারীর জীবনবোধের একমাত্র সংজ্ঞা হয়ে উঠেছে।  পরিবার, সমাজ, ধর্ম সব মিলেই নারীর জীবনের সব স্বাধীনতা, সম্ভাবনা, নেতৃত্ব, আনন্দ, হাসি মুছে দেয়া হয়।

কিন্তু নারীর জন্ম শুধু স্বামী, সন্তান, ঘর বা রান্নার জন্য নয়; তার ইচ্ছা, স্বপ্ন, শিক্ষা, অর্জন, বৈচিত্র্য ও ব্যক্তিত্বের জন্য। নারী মানুষ, দাসী নয়; স্বামী শুধু পরিবার, সঙ্গী, সমান অধিকার ও সম্পর্কের অংশ তার ওপর শাসন, অন্ধত্ব, কর্তৃত্ব নয়।

এখনই সময় নতুন প্রজন্ম, সমাজ, পরিবারকে বদলানোর। নারীদের নিজের মত, নিজের চেতনা, নিজেদের অধিকার নিয়ে সাহসের সাথে সামনে আসতে হবে। স্বামীর সেবা নয়, নিজের জীবনের অগ্রগতি, সম্মান, নেতা-হওয়ার, নিজের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে দেওয়ার। সমাজ, ধর্ম, আইন সবকিছু নারীর স্বাধীনতার, সমান অধিকার আর স্বপ্নের পথে চলার সুযোগ তৈরি করুক।