ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, নারীকে যুগের পর যুগ ধরে ধর্ম, সমাজ, আইন, সংস্কৃতি সবকিছু দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ বানানো হয়েছে। শিক্ষা, সম্পত্তি, মুক্তপ্রকাশ, কর্মক্ষেত্র, এমনকি পোশাক এবং ভালোবাসা নিয়েও চারপাশে অগণিত অর্থহীন বাধা। নারীবাদের মূল চেতনা হল এই অবিচার, বৈষম্য আর দমন-নিঃশ্বাসের চক্র ভেঙে নারীর জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।
নারীবাদ থেকে উঠে আসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি:
-
সমান মজুরি, সমান কাজের অধিকার
-
নারীর দেহ, জীবন ও পরিচয়ের ওপর পূর্ণ অধিকার
-
জন্ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, স্বপ্ন সবকিছুতে সমান অংশগ্রহণ
-
পারিবারিক, রাজনীতি, সংস্কৃতি সবজায়গায় নেতৃত্ব ও সম্মান
-
ধর্ষণ, নির্যাতন, বৈষম্য, কুসংস্কার, সম্ভ্রমহানির বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলন
নারীবাদি চিন্তা মানে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজ-রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য নারীকে তার নিজের মতো করে বাঁচার সুযোগ, স্বাধীনতা ও সম্মান দেয়া। পোশাক, হাসি, পছন্দ, প্রেম, মতামত, ক্যারিয়ার, ভোট এখনও সব কিছুতেই মেয়েদের ওপর সামাজিক দৃষ্টি, শেকল ও নিয়ন্ত্রণ। তাই নারীবাদ বিদ্যমান সামাজিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে, প্রকৃত সমতার জন্য সংগ্রাম।
নারীবাদ শুধু নারী নয়, আসলে মানব মুক্তির আন্দোলন। নারীকে মানুষ ভাবার, তার মর্যাদা রক্ষার, নিজের ইচ্ছায় বাঁচার পথ খুলে দিতে সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র, নীতি-প্রণেতা সবার একসাথে মানসিক উদারতা, আইনগত সমানতা, মানবিক দায়িত্ব নিতে হবে। নারী যত বেশি স্বাধীন, সচেতন, নিরাপদ সমাজ তত বেশি মানবিক, প্রগতিশীল, সুন্দর।
প্রকৃত নারীবাদ মানে অধিকার ও আত্মবিশ্বাসের দাবি সহিংসতা, নিপীড়ন, বৈষম্য আর পিতৃতন্ত্রের গ্লানি ছিঁড়ে নারীর নিজস্ব পরিচয় ও স্বপ্ন নিয়ে গড়া জীবন।