শিশুকাল থেকেই মেয়েদের বলা হয় “বেশি পড়ে লাভ নেই, পরিবার ভাঙবে, স্বামী পাবে না, মেয়েদের পড়াশোনা মানে বাড়তি ঝামেলা।” উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখার আগেই ধর্মীয় ফতোয়া, সামাজিক গল্প, মুরুব্বির শাসন সব মিলে নারীকে পিছু টেনে ধরার দৌড় শুরু হয়।
নানা কথন, প্রশ্ন, সন্দেহ, চরিত্র নিয়ে ব্যঙ্গ, পোশাক, চলাফেরা, বন্ধু সব কিছুতে আধুনিক নারীর প্রতিটি পদক্ষেপে পুরুষতন্ত্রের ছায়া। হচ্ছিল নারী বেশি আত্মবিশ্বাসী হলে “অশালীন”, “অসম্মানজনক”, “পরিবারবিরোধী” নামে চিহ্নিত হতে হয়।
উচ্চশিক্ষা, নিজের ক্যারিয়ার, ব্যবসা, গবেষণা, নেতৃত্ব সবক্ষেত্রে শিক্ষিত নারীর অর্জন বারবার পুরুষতান্ত্রিক কৌতুক, সন্দেহ, ও অন্যায় প্রতিরোধের সামনে আটকে যায়। পরিবার-সমাজে নারীর স্বাধীন পদক্ষেপে “শ্বশুরবাড়ি অশান্তি”, “বাবার সম্মানহানি”, “সমাজে কেলেঙ্কারি” এসব চাপ আসতে থাকে।
অফিসে, কর্মক্ষেত্রে নারীর দক্ষতা, লিডারশিপ, সৃজনশীলতা কতবার কটাক্ষ, মন্থর, সমান মজুরি না পাওয়া, যৌন হয়রানি আর পদোন্নতির সুযোগ কম এসব বাধায় হারিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষিত নারীর মতামত মানেই ট্রল, অপমান, ব্যক্তিগত আক্রমণ, “তুই-তোকারি”, ধর্মীয় অপবাদ।
সবচেয়ে বড় সংকট নতুন প্রজন্মের নারীকে কিছুটা স্বাধীনতা দিলেও সমাজ-রাষ্ট্রের পুরুষতান্ত্রিক চক্র তার আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, স্বপ্নের বিপক্ষে অগণিত কৌশল, ধর্ম-সংস্কৃতি, আইনের বিভ্রান্তি, এবং রক্ষণশীলতার যাতাকল চালিয়ে দেয়।
তবুও আটকে থাকেনি শিক্ষিত নারীর সংগ্রাম প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। আজ সমাজে, মিডিয়ায়, প্রশাসনে, আইনে, শিক্ষাঙ্গনে সহস্র নারী নিজস্ব শক্তি, যোগ্যতা, সাহস নিয়ে এগিয়ে চলছে। তারা সম্পত্তির মালিক হচ্ছে, প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, নেতৃত্ব দিচ্ছে, পরিবার বদলাচ্ছে, ধর্ম-রীতি-সংস্কার ভেঙে নিজের মতো বাঁচছে।
ষড়যন্ত্র, ভয়, বাধা, সমাজের কড়াকড়ি সবকিছু উতরে শিক্ষিত নারী বাংলাদেশের পরিবর্তনের, স্বাধীনতার, প্রগতির মূল ভরকেন্দ্র।
এই উত্তরণ সম্ভব শুধু যৌথ সামাজিক মনোভাব, নারী-পুরুষের সমান অধিকার, শিক্ষায় সমতাভিত্তিক প্রভাব, এবং ধর্মী ও সংস্কার-বাধা ভেঙে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে দিলে।
শিক্ষিত নারী মানে শুধু স্ট্যাটাস নয় নতুন সমাজ, নতুন ভাবনা, নতুন নেতৃত্ব, নতুন পরিবর্তনের দাবিদার।