সমান অধিকার ও সম্মান কি এই সমাজে আদৌ সম্ভব?

কেন এত কথা, এত সভা, আইন, বিবৃতি, দিবস তবুও নারীর অধিকার ও সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ?

সমাজ নারীর ‘যোগ্যতা’কে আজও দেখে ভালো স্ত্রী, মেয়ে, মা, ঘরোয়া, নিঃস্বার্থ সহনশীলতায়। স্বামীর সেবা, সংসার রক্ষা, স্বপ্ন বিসর্জন এসব থাকলে নারী সম্মান পায়, ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখালে ‘অশালীন’, ‘স্বার্থপর’ ট্যাগ।

পরিবারে জন্ম নেয়া কন্যা শিশুর শিক্ষা, সম্পত্তি, সিদ্ধান্ত সবকিছুতেই ছেলেদের তুলনায় দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা।

আইন-আদালতে নারীবান্ধব বিধান থাকলেও, বাস্তবে খোঁজ নিলে দেখা যায় বিচারহীনতা, ধীরগতি, ভিক্টিমব্লেমিং, থানা-পুলিশের নিরুৎসাহ সব নারীকে তার অধিকার থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক কুসংস্কার, মিডিয়ার চিত্রায়ন সবকিছুতে নারীকে অপরাধী সিদ্ধান্তহীন,পুরুষতান্ত্রিক শৃঙ্খলের শিকার করা হয়।

আশার দিকগুলো:

  • শহর-গ্রাম, ছোটবড় অফিস, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীরা নতুন প্রজন্মে নিজেদের অধিকার আদায়ের পথে নেমেছে। অনেক নারী নেতা, কর্মী, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী আজ প্রতিষ্ঠিত।
  • সুশিক্ষিত–সচেতন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা, উন্মুক্ত চিন্তা, কর্মজীবন নিয়ে অগ্রগতি ঘটছে।
  • সোচ্চার মিডিয়া, নাগরিক আন্দোলন, প্রযুক্তি নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলার, তাল মিলিয়ে প্রতিবাদ করার, অনলাইনে একজোট হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

কিন্তু সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ:

  • শহরের বাইরে, গ্রামে ধর্মীয় ফতোয়া, জেন্ডারবায়াস, পুরনো মানসিকতা ও দারিদ্র্য নারীর পথ আটকে রাখে।
  • অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হয়েও নির্যাতন, বৈষম্য, পরিবার বা সমাজের ভয়ে চুপ থাকেন।
  • মূল আইনের মাঠে, পুলিশের ভেতরে, বিচারিক প্রক্রিয়ার গলিতে এখনও নারীর দিক থেকে বিশ্বাসযোগ্য সুরক্ষা নেই।

তাহলে সামনে উপায় কী?

সমান অধিকার-সম্মান শুধু কাগজে-কলমে নয়, পরিবার, সংবিধান, সমাজ ও নীতিনির্ধারক সবখানেই মানসিক বৈপ্লবিক পরিবর্তন, হিংসা/বৈষম্য/ধর্মীয় চক্রান্ত মোকাবিলায় ভূমিকা নিতে হবে। নারীর ‘সমান অধিকার’ মানে জীবনের সব পরিসরে সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা, শিক্ষার সমান সুযোগ, আয়ের নিশ্চয়তা, সম্পত্তির অধিকার, নেতৃত্ব, নিঃশর্ত সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

নারীর জন্য সম্মান আর অধিকার সত্যি বাস্তব হবে যেদিন সমাজ নারীকে শুধু কারও মা, বোন, স্ত্রী নয়মানুষ হিসেবেই সম্মান দিতে শিখবে। এই পরিবর্তন শুরু হবে প্রশ্ন, চেতনা, শিক্ষা, আন্দোলন, এবং পরিবারের ভেতর থেকেই।